

কক্সবাজারের টেকনাফে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে পার্লার। এসব পার্লারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে স্পর্শকাতর কর্মকান্ড। এতে করে দিন দিন সামাজিক অবক্ষয় তো হচ্ছেই। পাশাপাশি উঠতি বয়সের যুবতিরা পার্লারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে জানাগেছে। সচেতন অভিভাবকদের মতে, সামাজিক অবক্ষয় রোধে পার্লারের আড়ালে সৃষ্ট অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সম্প্রতি টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে গড়ে উঠেছে পার্লার। এসব পার্লার, নারীসহ লোকজনকে আকৃষ্ট করতে চিত্তাকার্ষক নামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। রুপচর্চা তথা সাজিয়ে দেওয়ার নামে বেশীর ভাগ পার্লার দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে।
#নেই এনএসডিএ সার্টিফিকেট।
#রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত।
#নারী ও শিশু পাচার।
#মানবপাচার।
#ইয়াবা পাচার।
#ব্ল্যাক মেইলিং
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্লার সমুহে দিবারাত্রি রোহিঙ্গা নারীরা যখন-তখন যাতায়াত করেন। যুবতি ছাড়াও রোহিঙ্গাদের সব নারীরা নিয়মিত পার্লারে যাওয়া আসা করেন। অভিযোগ উঠেছে, পার্লারে যাতায়াতের সুবাধে রোহিঙ্গা নারীরা স্থানীয় ইয়াবা কারবারী ও উঠতি বয়সের যুবকদের সাথে মিশে যাচ্ছেন। ওই সুবাধে রোহিঙ্গা নারীরা টাকার বিনিময়ে অনায়াসেই ইয়াবা পাচার ও মানবপাচার কাজে ব্যবহ্রত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, পার্লারে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গা নারীদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু পাচার কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা (রোহিঙ্গা নারী) গ্রামের সহজ সরল নারীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে নারী-শিশুদের ফাঁন্দে ফেলে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার হচ্ছেন বলে সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ।
জানাগেছে, পার্লার খুলতে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স বা ট্রেডিশনার সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামুলক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিউটিশিয়ানদের অবশ্যই এনএসডিএ ট্রেনিং থাকতে হবে। এখানকার প্রায় সব পার্লারে কর্মরত নারীদের এনএসডিএ ট্রেনিং নাই বললেই চলে।
পার্লার কর্তৃক ব্ল্যাক মেইলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নব বিবাহিত অনেক নারী ও পুুরুষ। সদ্য বিবাহিত টেকনাফের এক সংবাদকর্মীও পার্লার কর্তৃক ব্ল্যাক মেইলিংয়ের ফাঁদে পড়েছিলেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। পরে ওই সংবাদকর্মী বিষয়টি আঁচ করতে পারলে চাপের মুখে তার এবং তার প্রিয়তমা স্ত্রীর ছবি পেইজ থেকে ডিলেট করে দেওয়ার শর্তে বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে সুরাহা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নববধুকে পার্লারে সাজিয়ে দেওয়ার পর প্রচারের স্বার্থে বেশীর ভাগ সময়েই তারা ছবি তুলে রাখেন। পরে সুবিধাজনক সময়ে নিজস্ব ফেইজ বা অন্যকোন ফেইজে প্রচারের জন্য এসব ছবি পোষ্ট করেন। যাতে করে অপরাপর নারীরাও যেন তাদের পার্লারের কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সংশ্লিষ্ট নারীদের অনুমতি ছাড়া টিকটক বানিয়ে প্রচারের বিষয়টিকে গুরুতর অপরাধ বলে দাবী করছেন ভুক্তভোগীরা।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মো: ইলিয়াছ ফারুকী জানান, যথাযথ পর্দার বিধান রক্ষা করেই রুপচর্চা করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে পার্লার কেন্দ্রীক যে সব অপরাধ কর্মকান্ড গড়ে উঠছে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত সময়োপযোগী মনে করছেন এই আলেম। নারীদের দিয়ে শরীয়ত বিরোধী অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধে তিনি পার্লার সমুহ নজরদারীতে রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস) আহবায়ক মমতাজুল ইসলাম মনু জানান,যত্রতত্র পার্লার গড়ে উঠার কারণে টেকনাফের সামাজিক অবক্ষয় তো হচ্ছেই। পার্লার সমুহে রোহিঙ্গা নারীদের অবাধ যাতায়াতের সুবাধে নারীদের একটি অংশ পাচার কাজ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। তিনি পার্লার কেন্দ্রীক অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এসিল্যান্ড মো: রাকিব হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সর্বস্তরের সচেতন অভিভাবকসহ ভুক্তভোগী লোকজন টেকনাফের গড়ে উঠা পার্লার সমুহে নজরদারীর দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে এসব পার্লারে ঝটিকা অভিযানের দাবী সংশ্লিষ্ট সকলের।##


পাঠকের মতামত